ফেসবুকে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার কলেজছাত্র

অনেক দিন ধরে ফেসবুকে নারীর সঙ্গে পরিচয়, এরপর মোবাইলে কথোপকথন। পরে দেখা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন সোহাগ নামের এক কলেজছাত্র। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সোহাগকে অপহরণের পর তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেন অপহরণকারীরা।

এমন ঘটনায় অপহৃত কলেজছাত্রকে উদ্ধারসহ চার অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ। গ্রেফতার আসামিরা হলেন- লুৎফুন নাহার তন্বী, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. মাসুদ রানা ও মো. স্বপন। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই রাতে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিরুর রহমান এসব তথ্য জানান। ওসি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে নার্সিং কলেজের ছাত্র সোহাগের সঙ্গে লুৎফুন নাহার তন্বীর পরিচয় হয়। তন্বী নিজেকে মাস্টার্স পাশ করা একজন অবিবাহিত তরুণী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর মোবাইল ফোনে তন্বীর সঙ্গে সোহাগের দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা চলে।

গত সোমবার (১৮ জুলাই) তন্বী সোহাগকে মোবাইল ফোনে মিরপুর-১ নম্বর ফুটওভার ব্রিজের নিচে দেখা করতে বলেন। বুধবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহাগ সেখানে যাওয়ার পর তারা মিরপুর-১ নম্বরের রোজ ভিউ আবাসিক হোটেলের একটি রুমে যান। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তন্বী হোটেলকক্ষ থেকে এসএমএসের মাধ্যমে অপহরণচক্রের শফিকুল, মাসুদ ও স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

মো. মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, তন্বীর এসএমএস পেয়ে শফিকুল, মাসুদ ও স্বপন হোটেলে উপস্থিত হন। এ সময় শফিকুল নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সোহাগের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে কৌশলে তন্বী ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে শফিকুল, মাসুদ ও স্বপন সোহাগকে সিআইডি অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সামনে থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে উঠান। আসামিরা সিএনজিতে সোহাগের হাত-মুখ চেপে ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

এ সময় আসামিদের সিআইডি কর্মকর্তা না বলে সন্দেহ হলে টেকনিক্যাল মোড়ে পুলিশের গাড়ি দেখে চিৎকার করে ওঠেন সোহাগ। চিৎকার শুনে টহলরত পুলিশ সদস্যরা সিএনজির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে পাইকপাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে থেকে সিএনজিটি আটক করে সোহাগকে উদ্ধার ও তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিরপুর-১ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তন্বীকে গ্রেফতার করে। এদিকে মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় আসামিদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি মোস্তাজিরুর রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published.